Wednesday, June 5, 2013
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, গণতন্ত্র ক্রমে বিপন্ন হয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলোতে রাজনীতি ও গণতন্ত্রের চর্চা নেই। তিনি মন্তব্য করেন, গণতন্ত্রের এ সমস্যাটা দুই নেত্রীকে নিয়ে নয়। সমস্যাটা রাষ্ট্রব্যবস্থার। আমরা এমন একটা কেন্দ্রশাসিত রাষ্ট্রব্যবস্থা করেছি, যাতে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে রাষ্ট্রের কেন্দ্র তথা একটি অফিসে, একজন ব্যক্তির হাতে। অতীতের মোগল সম্রাট বা রাশিয়ার জারদের হাতেও এত ক্ষমতা ছিল না, যা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর আছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি রাষ্ট্রে 'চেকস অ্যান্ড ব্যালান্স' সমুন্নত রাখার তাগিদ দেন। নাগরিক ঐক্যের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় ড. আকবর আলি খান এ কথা বলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে 'দুই নেত্রীর হাতে দেশ নিরাপদ নয়, তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার এখনই সময়' শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করা হয়। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টুসহ নাগরিক ঐক্যের নেতারা। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সরকারি দল লুটপাটপন্থি বিরোধী দলও লুটপাটপন্থি। এ জন্য বিদেশি শক্তিগুলো দ্বিদলীয় শক্তির রাজনীতির মধ্যে আমাদের আবদ্ধ করে ফেলেছে। তিনি মন্তব্য করেন, একতরফা নির্বাচন হলে মহাজোটের ক্ষমতায় থাকার দ্বিতীয় টার্ম নিশ্চিত হয়ে যায়। জামায়াতের সঙ্গেও তলে তলে সরকার হিডেন ডিল খেলছে। খালেদা নির্বাচনে না এলে তোমরা আস, আমরা দেখব। এ জন্য এরশাদকে পাতানো বিরোধী দলের ভূমিকায় নামানো হয়েছে। তারেককে (তারেক রহমান) নিয়ে যেন কোনো কিছু না করা হয় তলে তলে সংলাপের নামে বিএনপি সেই খেলা খেলছে। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, '৫৪ সালে কেউ মনে করেনি মুসলিম লীগকে কেউ হারাতে পারবে। কিন্তু হক-ভসানী-সোহরাওয়ার্দী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে যুক্তফ্রন্টের বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। তেমনিভাবে ড. কামাল-সেলিম-খালেকসহ বাম প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তি আজ ঐক্যবদ্ধ হতে পারি। আওয়ামী লীগ-বিএনপির পাল্টা ৩০০ আসনে এমপি মনোনয়ন দিতে পারি। জনগণকে বলতে পারি- আমরা দুর্নীতি করি না, আমাদের দখলবাজির রেকর্ড নেই। আমরা দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে চাই। এটাই নাগরিক ঐক্যের তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার মন্ত্র। মান্না আরও বলেন, 'দুই নেত্রীর কাছে দেশ নিরাপদ নয়' এ স্লোগান নিয়ে এ জন্য আমরা মাঠে নেমেছি যে দুই দলের বড় বড় নেতারা কেবল মিউ মিউ করছেন। নেত্রীর কাছে গিয়ে মাথা খুঁড়ছেন মাফ করে দেন, ভুল হয়ে গেছে। এবার নমিনেশন দেননি, মন্ত্রিত্ব দেননি কোনো সমস্যা নেই। আমরা আছি। অর্থাৎ রাজনীতি এখন এমপি হওয়া মন্ত্রী হওয়ার মধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে। এ সুযোগে দেশে দুর্নীতি, লুটপাটের তাণ্ডব চলছে। দুই নেত্রী চাইলে এ তাণ্ডব চলতে পারত না। তিনি বলেন, এ দুজনের ওপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যতে এ দেশের কী হবে।
বিখ্যাত ইংরেজ উপন্যাসিক ঔধহব অংঃবহ-এর কালজয়ী প্রেমের গল্প হলো 'চৎরফব ধহফ চৎবলফরপব'। এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো তৎকালীন ইংরেজ ধনী সমাজের এক তরুণ ডার্সি। উচ্চ শিক্ষিত, প্রচণ্ড অহংকারী, স্বভাবে নাক উঁচু, আর বংশমর্যাদায় গর্বিত এই ডার্সির ঘটনাচক্রে এবং নানা নাটকীয়তার মধ্যে সাধারণ-মধ্যবিত্ত এক পরিবারের মেয়ে এলিজাবেথের সঙ্গে পরিচয় হয়। এলিজাবেথ ছিল মি. অ্যান্ড মিসেস বেনেটের পাঁচ মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। মি. অ্যান্ড মিসেস বেনেট সব সময় তাদের মেয়েদের প্রচণ্ড স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে নাক উঁচু ডার্সি সব সময় এলিজাবেথকে তাদের সামাজিক এবং পারিবারিক অবস্থান নিয়ে ব্যঙ্গ, অপমান করতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে এলিজাবেথের রূপ ও গুণে মুগ্ধ হয়ে সেটা ভালোবাসায় রূপান্তরিত হয়। কিন্তু ডার্সির অভিজাত পরিবার তা মেনে নেয় না, ওদিকে এলিজাবেথের পরিবারেও ঘটতে থাকে নানা অঘটন। অবশেষে নানা নাটকীয়তার পরে ডার্সি-এলিজাবেথের মিলন হয়। নাটকীয়তা, হাস্যরসে ভরা, ইংরেজ সমাজের হরেক রকম দিক, লেখকের চমৎকার বর্ণনায় এ উপন্যাসটি হয়ে উঠেছে ইংরেজি সাহিত্যের অমর এক সৃষ্টি।
প্রেম কাহিনী অথবা রোমান্টিক জুটির কথা উঠলে আমাদের দেশে সবার আগে যাদের নাম উচ্চারিত হয় তারা হলেন লাইলি-মজনু। মধ্যযুগীয় ইরানি কবি �Nizami of Zanje� নামে যিনি পরিচিত, তিনি আরবীয় সামাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে রচনা করেন,�Layla and Majnn is a tragic tale abot nattainable love�| । প্রেমের ইতিহাসে, বিশেষ করে এই উপমহাদেশীয় মুসলিম সমাজে কালজয়ী হয়ে ওঠে দুটি চরিত্র_ লাইলী ও মজনু। স্বর্গীয় প্রেমের প্রতীক মানা হয় এই জুটিকে। অধরা প্রেমের এক বিয়োগন্ত গাঁথা এ কাব্য। কাব্য লিখিত হওয়ার আগে শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে এই মিথ আরবে প্রচলিত ছিল। পাণ্ডুলিপি এবং সিরামিকে মূর্ত চিত্রে জীবন্ত হয়ে ছিল এই মিথ। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে লাইলী এবং কায়েস একে-অপরের প্রেমে পড়েন। তাদের প্রেম সমাজের নজরে এলে দুজনের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করা হয়। নিঃসঙ্গ কায়েস মরুপ্রান্তরে নির্বাসনে যান। বিরহকাতর কায়েসের ক্ষ্যাপাটে আচরণের জন্য তাকে ডাকা হতো মজনু (পাগল) নামে। মরুভূমিতে এক বৃদ্ধ বেদুইন লড়াই করে লাইলীকে পাওয়ার জন্য কায়েসকে প্রেরণা দেন। লাইলীর গোত্র ক্ষমতাচ্যুত হয়, কিন্তু তারপরও লাইলীর বাবা কায়েসের সঙ্গে লাইলীর বিয়েতে সম্মতি দেন না। কথিত আছে, লায়লির পিতা মজনুকে আহত করলে লাইলীও আহত হতো, এমনই ছিল তাদের সেই স্বর্গীয় প্রেম। কিন্তু মজনুকে মরুভূমিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে বেদুইনের দল মজনুর হার না মানা ভালোবাসা দেখে তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। তারা লাইলীর বাবাকে যুদ্ধে হারিয়ে দেয়। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়। লাইলীকে তার পিতা জোর করে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর লাইলী মজনুর কাছে ফিরে আসে, কিন্তু প্রচণ্ড দুঃখ আর অনাহারে মজনু মারা যায়। লাইলীও তার ভালোবাসা মজনুর পথ অনুসরণ করে। মৃত্যুর পর তাদের পাশাপাশি সমাধিস্থ করা হয়। স্বর্গে গিয়েও ভালোবাসার মানুষকে চাওয়ার তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের আকুতি এই কাহিনীকে অমর করে রেখেছে। 'দুই দেহ এক আত্দা' নামক বহুল প্রচলিত কথা এই যুগলের অনুপ্রেরণায় পাওয়া।
গ্রিক ইতিহাসের প্রেমকাহিনীর কথা উঠলে সবার আগে উচ্চারিত হয় প্যারিস ও হেলেনের সেই অমর কাহিনী। কিন্তু এই ইতিহাসে আরও অনেক প্রণয় ও আলোচিত জুটি রয়েছে, যারা এখনো মাথা উঁচু করে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিচরণ করছে। ওডিয়াস-পেনেলোপ ঠিক এরকমই একটি জুটি। অন্যান্য গ্রিক প্রেমের গল্পের মতোই এ জুটির প্রেমও ছিল ত্যাগ আর বিসর্জনের। এ জুটি তাদের মিলনের জন্য অপেক্ষা করেছিল দীর্ঘ ২০ বছর! তাদের বিয়ের কিছু পরই ওডিয়াসকে যুদ্ধে চলে যেতে হয়। কিন্তু স্বামীর প্রত্যাবর্তনের আশায় আশায় পেনেলোপ তার জন্য অপেক্ষা করেছিল ২০ বছর। এর মধ্যে তিনি ১০৮ জন রাজাকে প্রত্যাখ্যান করেন, অপরদিকে ওডিয়াসও স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন। তিনিও অনেক দেবীর প্রেম ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। Homer রচিত এই এপিকে তিনি প্রমাণ করেছেন, 'ভালোবাসার অন্য নাম- অপেক্ষা!' তিনি বলেছেন, �remember that tre love is worth waiting for!�
Subscribe to:
Posts (Atom)





